দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সকালের নাশতায় সেদ্ধ ডিম, দুপুরের খাবারে ডিমের ঝোল কিংবা বিকেলের নাশতায় অমলেট। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় নানা রূপে জায়গা করে নেওয়া ডিম পুষ্টির চাহিদা পূরণেও রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সহজে রান্না করা যায়, নানা পদের সঙ্গে খাপ খায় এবং তুলনামূলক সহজলভ্য হওয়ায় অনেক পরিবারের খাদ্যতালিকায় ডিমের রয়েছে বিশেষ স্থান। ডিমের এই পুষ্টিগুণ, সহজলভ্যতা ও খাদ্যনিরাপত্তায় অবদান তুলে ধরতেই আজ, শুক্রবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস।
এবার দিবসটির ৩০তম আয়োজন। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রোটিন শক্তি জোগায় ও সুরক্ষা দেয়’। ডিমের উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন বিশ্ব ডিম দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে দিবসটি ডিমের পুষ্টিগুণ তুলে ধরা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসে এর গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার একটি উপলক্ষে পরিণত হয়েছে।
ডিম দিবসে ঘরেই পছন্দের কোনো ডিমের পদ তৈরি করা, পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে নাশতা করা কিংবা ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে নতুন কিছু জানার মধ্য দিয়েও দিনটি উদযাপন করা যায়।
পছন্দের পদে থাকুক নতুনত্ব
ডিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, অল্প সময়েই এটি দিয়ে তৈরি করা যায় নানা ধরনের খাবার। যারা প্রতিদিন একই ধরনের ডিম খেতে খেতে বিরক্ত, তারা এ দিন চেষ্টা করতে পারেন নতুন কোনো পদ। সাধারণ অমলেটে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও বিভিন্ন সবজি যোগ করে আনা যায় ভিন্ন স্বাদ। তৈরি করা যেতে পারে ডিমের স্যান্ডউইচ, ডিমের পরোটা কিংবা মসলাদার ডিমের ঝোল।
শিশুদের জন্য তৈরি করা যেতে পারে ডিম ও সবজি দিয়ে মজার নাশতা। তবে খাবার তৈরির সময় পুষ্টির পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ রান্নার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। ডিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াই নিরাপদ।
পরিবারের সঙ্গে হোক ডিমের আয়োজন
ব্যস্ততার কারণে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে খাওয়ার সুযোগ সব সময় হয় না। ডিম দিবস হতে পারে সেই সুযোগ তৈরির একটি উপলক্ষ। পরিবারের সদস্যরা মিলে নিজেদের পছন্দের পদ বেছে নিতে পারেন। কেউ রান্না করবেন, কেউ সাজাবেন খাবার টেবিল। আর সবাই মিলে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হতে পারে সুন্দর সময়।
শিশুদেরও বয়স অনুযায়ী রান্নার সহজ কাজে যুক্ত করা যায়। এতে খাবার তৈরির প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্য উপাদান সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে।
জানুন ডিমের পুষ্টিগুণ
ডিমের বহুমুখী গুণের জন্য এটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। ডিমে যেসব পুষ্টিগুণ থাকে, তা সাধারণত অন্যান্য খাবারে খুব কমই থাকে। তাই সুষম ডায়েটের জন্য ডিম একটি অসাধারণ খাবার। এটি গর্ভবতী মা, শিশু, কিশোর এবং বয়স্কদের জন্যে অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

ডিমে ৯ ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, যা শরীরে প্রোটিনের সমস্ত চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ডিমের প্রোটিন পেশি তৈরি করতে, ক্ষুধা নিবারণ করতে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সাধারণত আয়রন এবং ভিটামিন এ, বি৬, বি১২, ডির ঘাটতি দেখা যায় বিশ্বজুড়ে। ডিমের মধ্যে এসব পুষ্টিগুণ উপস্থিত থাকে। ডিমের এ পুষ্টিগুণ আমাদের প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। শারীরিক বৃদ্ধি ঘটায়। শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করে।
ডিম সেলেনিয়ামের সমৃদ্ধ উৎস। এতে রয়েছে দস্তা, লোহা এবং তামার মতো নানা প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। এগুলো বিশেষত কোলিনের উত্স হিসেবে পরিচিত, যা মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করে ও স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ করে।
তাই ডিম দিবসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এসব পুষ্টিগুণ নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। শিশুদের জন্য ছোট প্রশ্নোত্তরের আয়োজনও করা যায়। ডিম কেন সুষম খাদ্যের অংশ, এতে কী ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে কিংবা নিরাপদে ডিম সংরক্ষণ ও রান্না করা কেন জরুরি, এসব বিষয়ে জানার মধ্য দিয়ে উদযাপনটি হয়ে উঠতে পারে শিক্ষণীয়।
ছোট আয়োজনেও ছড়াতে পারে সচেতনতা
ডিম দিবস কেবল ঘরোয়া আয়োজনেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, এমন নয়। বন্ধু, সহকর্মী কিংবা স্থানীয় সংগঠনের উদ্যোগে ডিমের বিভিন্ন পদ নিয়ে নাশতার আয়োজন করা যায়। রান্নার প্রতিযোগিতা, নতুন রেসিপি বিনিময় কিংবা পুষ্টিবিষয়ক আলোচনার মাধ্যমেও দিবসটি উদযাপন করা সম্ভব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের তৈরি ডিমের পদের ছবি ও রেসিপি শেয়ার করে নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ডিমের পুষ্টিগুণ, নিরাপদ ব্যবহার ও সুষম খাদ্যাভ্যাসে এর ভূমিকা নিয়ে তথ্য ছড়িয়ে অন্যদেরও সচেতন করা যায়।
ডিমের সহজলভ্যতা অনেক পরিবারের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এটি রাখার সুযোগ তৈরি করে। তবে খাদ্যনিরাপত্তায় ডিমের ভূমিকা শুধু এর পুষ্টিগুণে সীমাবদ্ধ নয়; নিরাপদ উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও সঠিকভাবে রান্না করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব ডিম দিবস তাই কেবল একটি খাবারকে ঘিরে উদযাপনের দিন নয়। এটি পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব বোঝা, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সচেতন হওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ারও উপলক্ষ। পছন্দের একটি ডিমের পদ তৈরি করে, নতুন কিছু শিখে কিংবা অন্যদের মধ্যে পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা ছড়িয়ে দিয়েই দিনটি অর্থবহ করে তোলা যায়।
/অ